রক্তচাপের যন্ত্রে পালসের সংখ্যাটি কী বোঝায়?

তৃতীয় সংখ্যাটি হৃদ্‌স্পন্দনের হার; বিশ্রামে মিনিটে 60 থেকে 100 স্পন্দন এবং লগে রাখার নিয়ম।

হালনাগাদ পড়তে 3 মিনিট

রক্তচাপের মনিটরের তৃতীয় সংখ্যাটি পালস বা হৃদ্‌স্পন্দনের হার। কাফ চলার সময় প্রতি মিনিটে কতবার হৃদ্‌যন্ত্র স্পন্দিত হয়েছে, তা দেখায়। ওপরের ও নিচের রক্তচাপের সংখ্যা থেকে এটি আলাদা। বিশ্রামে সাধারণত মিনিটে 60 থেকে 100 স্পন্দন হয়। রক্তচাপের রিডিংয়ের পাশেই পালস লিখুন, তার বদলে নয়।

পালস রক্তচাপ নয়

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA) ব্যাখ্যা করে, রক্তচাপ হলো রক্তনালির দেয়ালে রক্তের চাপ, আর হৃদ্‌স্পন্দনের হার হলো প্রতি মিনিটে হৃদ্‌যন্ত্রের স্পন্দনের সংখ্যা। একটি চাপ, অন্যটি গতি। বেশি পালস মানেই বেশি রক্তচাপ নয় এবং পালস রিডিংয়ের শ্রেণি বদলায় না। রক্তচাপের দুটি সংখ্যার শ্রেণি দেখতে রক্তচাপ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।

বিশ্রামের পালসের সীমা

AHA শান্ত অবস্থায় বসে বা শুয়ে থাকা সুস্থবোধ করা মানুষের বিশ্রামের হৃদ্‌স্পন্দন সাধারণত মিনিটে 60 থেকে 100 বলে। এই শর্তগুলো গুরুত্বপূর্ণ। সিঁড়ি ভেঙে উঠে সঙ্গে সঙ্গে মাপা পালসকে বিশ্রামের পালস বলবেন না।

রক্তচাপের রিডিংয়ের মতোই প্রস্তুতি নিন। AHA-র বাড়িতে মাপার নিয়মে পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসা, মাপার সময় কথা না বলা এবং আগের 30 মিনিট ক্যাফেইন, ধূমপান ও ব্যায়াম এড়ানোর কথা আছে। বাড়িতে রক্তচাপ মাপার নিয়ম পুরো ধাপগুলো দেখায়।

60-এর নিচে বা 100-এর ওপরে হলে

কোনোটিই একা সমস্যা প্রমাণ করে না। AHA বলছে, মিনিটে 60-এর কম হৃদ্‌স্পন্দন সবসময় চিকিৎসা সমস্যা বোঝায় না। 100-এর বেশি হলেও সবসময় সমস্যা নয়। দাঁড়ানো, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ব্যথা, গরম আবহাওয়া বা ব্যায়ামে গতি বাড়তে পারে। আপনার স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কতটা বদলেছে এবং উপসর্গ আছে কি না, তা গুরুত্বপূর্ণ।

এই 60 থেকে 100 AHA-র সাধারণ বিশ্রামের সীমা। এটি রক্তচাপের শ্রেণি, রোগ নির্ণয় বা বাংলাদেশের জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসার লক্ষ্য নয়। নিজের অবস্থা ও উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

লগে পালস কোথায় লিখবেন

রক্তচাপের ওপরের ও নিচের সংখ্যা এবং সময়ের পাশে আলাদা কলামে পালস লিখুন। তাতে অস্বাভাবিক ধীর বা দ্রুত পালস কোন দিনে হয়েছিল, চিকিৎসক দেখতে পারবেন। ছাপার উপযোগী রক্তচাপ লগে সকাল ও সন্ধ্যার হৃদ্‌স্পন্দনের কলাম আছে। গড় রক্তচাপ ক্যালকুলেটর সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক চাপের সঙ্গে দেওয়া হৃদ্‌স্পন্দনেরও গড় দেখাতে পারে। সময় ও নোট ঘটনাটি বুঝতে সাহায্য করে।

BP Diary কাফের রিডিংয়ের সঙ্গে সময় ও পালস রাখে। অস্বাভাবিক কিছু ঘটলে নোট যোগ করুন; প্রতিবেদনেও এই তথ্য যায়।

কখন চিকিৎসককে বলবেন

পালস আপনার স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর বা দ্রুত চলতে থাকলে চিকিৎসককে জানান, বিশেষ করে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অনুভূতি থাকলে। AHA এই উপসর্গগুলোর গুরুত্ব দেয়। তারিখসহ লগ নিয়ে গেলে পরিবর্তন বোঝাতে সুবিধা হবে।

পালস হঠাৎ আপনার জন্য খুব দ্রুত বা ধীর হয়ে গেলে, বিশেষ করে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে, স্থানীয় জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন।

একটি অস্বাভাবিক সংখ্যার সঙ্গে সেদিনের পরিস্থিতিও লিখুন। রিডিংয়ের আগে বিশ্রাম নিয়েছিলেন কি না, শরীর খারাপ লাগছিল কি না এবং পরে আবার মেপে কী পেয়েছেন, এসব তথ্য চিকিৎসককে বলুন। পালসের সঙ্গে রক্তচাপের দুটি সংখ্যাও রাখুন। শুধু পালস দেখে রক্তচাপ বেশি বা কম হয়েছে বলা যায় না, তাই একটির বদলে অন্যটি ব্যবহার করবেন না।

যদি মনিটরের পালসের সংখ্যা আগের রিডিং থেকে আলাদা দেখায়, রিডিং নেওয়ার অবস্থাটি আগে যাচাই করুন। মাপার সময় নড়াচড়া করেছিলেন কি না বা তাড়াহুড়ো করে বসেছিলেন কি না, নোটে লিখুন। একই নিয়মে বিশ্রামের পরে নেওয়া পরের রিডিংটি পাশাপাশি রাখুন। তবে উপসর্গ থাকলে শুধু তুলনা করার জন্য চিকিৎসা নিতে দেরি করবেন না। বাংলাদেশের পাঠকের জন্যও জরুরি সেবার পথ স্থানীয়; বিদেশি নির্দেশিকার নম্বর ধরে কল করবেন না।

আরও পড়ুন