রক্তচাপ কত হলে কম ধরা হয়?
NHS ও AHA-র 90/60 সীমা, উপসর্গের গুরুত্ব, দাঁড়ানোর পর চাপ কমার পরীক্ষা এবং নোট রাখার নিয়ম।
হালনাগাদ পড়তে 3 মিনিট

যুক্তরাজ্যের NHS এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA) 90/60 mmHg-এর নিচের রিডিংকে নিম্ন রক্তচাপ বলে। শুধু একটি কম রিডিং সাধারণত সমস্যা বোঝায় না। মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ আছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সংখ্যার পাশে উপসর্গ এবং কখন হয়েছে লিখুন।
কত হলে কম
NHS-এর সংজ্ঞায় 90/60 mmHg-এর কম রিডিং নিম্ন রক্তচাপ। উপসর্গ না থাকলে সবসময় চিকিৎসা প্রয়োজন হয় না। AHA-ও একই সীমা ব্যবহার করে এবং উদ্বেগজনক উপসর্গ না থাকলে সাধারণত ক্ষতিকর নয় বলে জানায়। এটি ব্রিটিশ ও মার্কিন সাধারণ নির্দেশনা; বাংলাদেশের জন্য একক রোগ নির্ণয়ের নিয়ম বা আপনার ব্যক্তিগত চিকিৎসার লক্ষ্য নয়।
এই সাইটের রক্তচাপ ক্যালকুলেটর মূলত বেশি রক্তচাপের শ্রেণি দেখায়। 120/70-এর নিচে সবকিছু একই নিচের শ্রেণিতে পড়তে পারে। কম রিডিং যাচাই করতে তাই 90/60-এর সীমা এবং নিজের উপসর্গ আলাদাভাবে দেখুন।
উপসর্গ না থাকলে
AHA বলছে, উপসর্গ বা অন্য সমস্যা না থাকলে স্বাভাবিকের চেয়ে একটি কম রিডিং সাধারণত উদ্বেগের কারণ নয়। তবু মাপার নিয়ম চালিয়ে যান এবং রিডিং লিখুন। এক সকালের সংখ্যার চেয়ে কয়েক দিনের ধারা বেশি কাজে আসে। গড় রক্তচাপ ক্যালকুলেটরে আগের সপ্তাহের সঙ্গে তুলতে পারেন।
কোন উপসর্গে গুরুত্ব দেবেন
বারবার মাথা হালকা লাগা বা ঘোরা, বমি বমি ভাব, ঝাপসা দেখা, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি অথবা অজ্ঞান হলে NHS রক্তচাপ যাচাই করতে বলে। AHA মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা অন্য উপসর্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কখন উপসর্গ হয়েছে তা লিখতে বলে।
অজ্ঞান হয়ে যাবেন মনে হলে NHS পা উঁচু করে শুতে বলে। শোয়া সম্ভব না হলে বসে মাথা নিচু করতে বলে। গুরুতর বা চলতে থাকা উপসর্গে স্থানীয় জরুরি সেবার সাহায্য নিন।
দাঁড়ালে চাপ কমে যাওয়া
দাঁড়ানো বা হঠাৎ ভঙ্গি বদলানোর পর উপসর্গ এলে NHS একে অবস্থান বদলের সঙ্গে সম্পর্কিত নিম্ন রক্তচাপ বলে। এটি যাচাইয়ের নিয়ম সাধারণ বসে মাপা থেকে আলাদা। যুক্তরাজ্যের NICE NG136 নির্দেশনায় চিকিৎসক প্রথমে শোয়া অবস্থায়, পরে দাঁড়ানোর অন্তত এক মিনিট পর মাপেন। ওপরের চাপ 20 mmHg বা বেশি অথবা নিচের চাপ 10 mmHg বা বেশি কমেছে কি না, দেখেন। এটি ব্রিটিশ ক্লিনিকের মূল্যায়ন পদ্ধতি; বাংলাদেশে আপনার চিকিৎসক পরীক্ষার ধরন ঠিক করবেন।
এর মধ্যে NHS-এর পরামর্শ হলো বসা থেকে ধীরে দাঁড়ানো এবং বিছানা থেকে উঠতে শোয়া, বসা, দাঁড়ানো এই ধাপগুলো ধীরে করা।
কী লিখবেন
রিডিং, সময়, তখন কী করছিলেন এবং উপসর্গ লিখুন। যেমন: 86/54, সকাল 7:40, বিছানা থেকে উঠেছি, এক মিনিট মাথা ঘুরেছে। শুধু 86/54 লেখার চেয়ে এই তথ্য চিকিৎসকের বেশি কাজে লাগে।
ছাপার উপযোগী লগে নোটের জায়গা আছে; লগ রাখার নিয়ম পুরো সপ্তাহের হিসাব বুঝিয়ে দেয়। BP Diary রিডিংয়ের সময়ের সঙ্গে নোট রাখে, তাই প্রতিবেদন শেয়ার করলে দুটোই দেখা যায়।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
NHS অনুযায়ী বারবার মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান। উপসর্গহীন একটি কম রিডিং লগে রাখতে পারেন; উপসর্গের পুনরাবৃত্তি হলে সময়সহ লগ নিয়ে সাক্ষাৎ করুন।
যদি একই ধরনের উপসর্গ বারবার হয়, প্রতিবার কী অবস্থায় ছিলেন তাও নোট করুন। বসা থেকে দাঁড়ানো, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা খাবারের আশপাশের সময় আলাদা করে লিখলে চিকিৎসক কোন পরিস্থিতিতে সমস্যা হচ্ছে বুঝতে পারবেন। নিজের স্বাভাবিক রিডিংও সঙ্গে রাখুন। একটি সংখ্যার সঙ্গে আগের রেকর্ড মিলিয়ে দেখা চিকিৎসকের জন্য বেশি অর্থবহ।
সাক্ষাতে লগ দেখিয়ে জিজ্ঞেস করুন উপসর্গের সময় আবার কীভাবে মাপবেন এবং কখন দ্রুত সাহায্য চাইবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শুধু একটি কম সংখ্যা দেখে নিজের পরিকল্পনা বদলাবেন না।