দিনের মধ্যে রক্তচাপের রিডিং কেন বদলায়?
সময় ও পরিস্থিতিতে রক্তচাপ বদলায়; মাপার আগের আধঘণ্টা, চিকিৎসাকেন্দ্রের পার্থক্য এবং কয়েক দিনের গড়।
হালনাগাদ পড়তে 3 মিনিট

দিনের মধ্যে রক্তচাপ বদলায়। ঘুম থেকে ওঠার পর বাড়তে পারে, কাজের সময় বেশি থাকতে পারে, বাড়িতে কমতে পারে এবং ঘুমের সময় সবচেয়ে কম থাকতে পারে। সঠিকভাবে এক মিনিটের ব্যবধানে নেওয়া দুটি রিডিংও আলাদা হতে পারে। দৈনন্দিন মূল্যায়নে একই নিয়মে নেওয়া কয়েক দিনের রিডিং ও গড় একটি সংখ্যার চেয়ে বেশি কাজে লাগে। তবে গুরুতর উপসর্গ বা জরুরি সীমার ওপরে বারবার রিডিং এলে দ্রুত সাহায্য প্রয়োজন।
দিনের স্বাভাবিক ধারা
মার্কিন ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের MedlinePlus বলছে, দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তচাপ আলাদা হওয়া স্বাভাবিক। কাজের জায়গায় বেশি, বাড়িতে কিছুটা কম এবং ঘুমের সময় সবচেয়ে কম থাকতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার সময় হঠাৎ বাড়তেও পারে। তাই সকালের ও সন্ধ্যার রিডিং আলাদাভাবে রাখা হয়।
মাপার আগের আধঘণ্টা
মাপার আগের কাজ ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন (AHA) আগের 30 মিনিট ধূমপান, ক্যাফেইন ও ব্যায়াম এড়াতে বলে। প্রস্রাবের বেগ সেরে নিয়ে অন্তত পাঁচ মিনিট কথা বা ফোন ছাড়া শান্ত হয়ে বসতে বলে। মাপার সময় কথা বলা, ভর্তি মূত্রথলি বা সিঁড়ি ভেঙে ওঠার পরপর মাপা বিশ্রামের রিডিংয়ের সঙ্গে তুলনা কঠিন করতে পারে। বাড়িতে রক্তচাপ মাপার নিয়ম ধাপগুলো দেখায়।
দ্বিতীয় রিডিং আলাদা কেন
পরপর দুটি রিডিং দুটি আলাদা মুহূর্ত। যুক্তরাজ্যের NICE NG136 চিকিৎসাকেন্দ্রে দ্বিতীয়বার মাপতে বলে। প্রথমটির সঙ্গে বড় পার্থক্য হলে তৃতীয়বার মেপে শেষ দুটি পূর্ণ রিডিংয়ের মধ্যে যেটি কম, সেটি নথিবদ্ধ করতে বলে।
বাড়িতে AHA এক মিনিটের ব্যবধানে দুটি রিডিং নিয়ে দুটিই লিখতে বলে। দ্বিতীয়টি প্রথমটির ভুল সংশোধন নয়। দুটি মিলিয়ে একটি মাপার সেশন।
চিকিৎসাকেন্দ্রের রিডিং বাড়ির চেয়ে আলাদা কেন
কিছু পার্থক্যের পরিচিত নাম আছে। ব্রিটিশ NICE অনুযায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রের রিডিং ও দিনের বহনযোগ্য যন্ত্রের বা বাড়ির গড়ের মধ্যে 20/10 mmHg-এর বেশি ব্যবধানকে ‘হোয়াইট কোট এফেক্ট’ বলা হয়। আবার চিকিৎসাকেন্দ্রে চাপ 140/90-এর নিচে থাকলেও বাইরে বেশি থাকাকে ‘মাস্কড হাইপারটেনশন’ বলা হয়; তার জন্য একই 20/10 ব্যবধান লাগবে না।
এই ব্রিটিশ সংজ্ঞাগুলো দেখায় কেন চিকিৎসক দুই জায়গার রিডিং তুলতে পারেন। বাংলাদেশে কোন মূল্যায়ন পদ্ধতি ব্যবহার হবে, তা স্থানীয় চিকিৎসক ঠিক করবেন।
কোন সংখ্যাটি কাজে লাগে
প্রথমে চিকিৎসকের দেওয়া সময়সূচি বা স্থানীয় নির্দেশ মানুন। যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্কদের রোগ নির্ণয়ের জন্য NICE দিনে দুবার এক মিনিটের ব্যবধানে দুটি রিডিং অন্তত চার দিন, আদর্শভাবে সাত দিন নেয়। প্রথম দিন বাদ দিয়ে বাকিগুলোর গড় করা হয় এবং তা চিকিৎসাকেন্দ্রের রিডিংয়ের সঙ্গে মেলানো হয়। ESC 2024 এবং NICE দুটিই বাড়ির গড়ে 135/85 mmHg-কে উচ্চ রক্তচাপের সীমা হিসেবে ব্যবহার করে, তবে বাংলাদেশের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
গড় এক মুহূর্তের প্রভাব কমায়। তবু গুরুতর উপসর্গ বা জরুরি সীমার ওপরে পুনরাবৃত্তি হলে গড়ের অপেক্ষা করবেন না। গড় রক্তচাপ ক্যালকুলেটর ধারাবাহিক রিডিংয়ের হিসাব দেয়; ছাপার লগে মাপ ও নোট লিখতে পারেন। BP Diary সময় ও নোটসহ প্রতিটি রিডিং রাখে এবং বেছে নেওয়া সময়ের গড় দেখায়।
কোন পরিবর্তনে সাহায্য চাইবেন
অপ্রত্যাশিত বেশি রিডিং আবার মেপে দুটিই লিখুন। সিস্টোলিক 180-এর বেশি অথবা ডায়াস্টোলিক 120-এর বেশি এবং সঙ্গে বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, পিঠব্যথা, অসাড়তা, দুর্বলতা, দৃষ্টির পরিবর্তন বা কথা বলতে অসুবিধা থাকলে পুনরায় মাপার অপেক্ষা না করে স্থানীয় জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন। লক্ষণগুলো না থাকলে অন্তত এক মিনিট পরে আবার মাপুন। দ্বিতীয়বারেও যেকোনো সংখ্যা নিজের সীমার ওপরে থাকলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
গুরুতর উপসর্গের মূল্যায়নের বিকল্প কোনো সংখ্যা নয়। এসব উপসর্গ ছাড়া রিডিংয়ের শ্রেণি ও পরবর্তী ধাপ রক্তচাপ ক্যালকুলেটরে দেখতে পারেন।